|
|||||||||||||
|
|||||||||||||
|
Related Topics চলচ্চিত্র: কলকাতা পারলে আমরা পারবোনা কেনো
by সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী http://www.weeklyblitz.net/1599/
THIS ARTICLE IS IN BANGLA: মনটাই খারাপ হয়ে গেল। সারা দেশেই সিনেমা হল রীতিমত প্রতিযোগিতা করে বন্ধ হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের কি হবে? বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প যখন অস্তিত্বের লড়াই করছে, তখন পার্শবর্তী পশ্চিম বঙ্গের কলকাতায় এই শিল্প আবার চাঙ্গা হতে শুরু করেছে। মাত্র কয়েক বছর আগেও যেখানে কলকাতার চলচ্চিত্র শিল্প কে বলা হত 'মৃতপুরী', ঠিক সেখানেই এখন আনন্দের বন্যা। প্রতি বছর কলকাতায় নির্মিত হচ্ছে অন্তত ১৫০-১৬০ টা ছবি। কলকাতা শহর এবং এর আশেপাশেই গড়ে উঠেছে ১০৮ টা সিনেমা হল। আগামী ২-৩ বছর এর মধ্যেই নাকি আরো ৪০-৫০ টা নতুন হল তৈরী হবে। অন্যদিকে, চলচ্চিত্র শিল্পে ব্যাংকগুলো বাত্সরিক মাত্র ৫ ভাগ সুদে ঋণ দিচ্ছে। সিনেমা হল নির্মানের জন্য ব্যাংক ঋণ পাওয়া যায় মাত্র ৬ ভাগ সুদে। চলচ্চিত্র শিল্পের কাঁচামাল, যেমন নেগেটিভ আমদানি করতে এলসি মার্জিন দিতে হয় ৩ ভাগ। এই শিল্পের জন্য ৩৫ এম এম ক্যামেরা আমদানির উপর কোনো আমদানি শুল্ক নেই। এক কথায়, সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় কলকাতা'র টালিগঞ্জ চলচ্চিত্রপূরী ক্রমশ জেগে উঠছে। এখানে প্রশ্ন দেখা দিতেই পারে, ওরা পারলে আমরা কেনো পারবোনা? উত্তরটা খুব-ই সোজাসাপ্টা। আমাদের সরকার প্রতিবছর চলচ্চিত্র শিল্প থেকে কোটি-কোটি টাকা রাজস্স আয় করলেও, এই শিল্পের প্রসারে কোনো উদ্যোগ নিতে একেবারেই নারাজ। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সবেধন-নীলমনি এফডিসি বা চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পরেশন, আসলে চলচ্চিত্রের উন্নতি না ধ্বংশ চায়, সেটাই বোঝা মুশকিল। ক্যামেরাগুলো প্রায় অচল। শুটিং ফ্লোরগুলোর জীর্ণদশা। সাউন্ড ল্যাব ত্রুটিপূর্ণ। রিভার্স ট্রান্সফার যন্ত্র কবে আসবে তা কেউ জানেনা। এখনো রিভার্স ট্রান্সফারের জন্য ছুটতে হয় মাদ্রাজ না হয় ব্যাংকক। কোটি-কোটি বিদেশী মুদ্রা এভাবেই চলে যাচ্ছে। সরকারের কোনই মাথাব্যথা নেই। এফডিসি ল্যাবরেটরিতে যে কেমিকেল ব্যবহার করা হয়, এগুলো খুবই নিম্নমানের। একারণেই প্রিন্টগুলোর অবস্থ্হাও যাচ্ছেতাই। এক কথায়, এফডিসি নামক প্রতিষ্ঠানটি আসলে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নতির বদলে একটি নিক্কৃষ্ট মানের দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়ে গেছে। আরো সমস্যা আছে। ভারত সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার, প্রতি বছর, অন্তত ১৫-২০ টা ছবিকে করমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে। সরকারী উদ্যোগে সিনেমাগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে পাঠানো হচ্ছে। নতুন শিল্পীদের জন্য সরকারী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে। যা আমাদের এখানে নেই। যে কয়েকটা ছবিকে কর মুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোর পেছনেও ছিল রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব। মনপুরা অথবা মনের মানুষ এর মতো ছবিগুলোকে কেনো করমুক্ত করা হয়নি? একটা দেশে তখনি ভালো চলচ্চিত্র নির্মিত হবে যখন সরকার উত্সাহ পৃষ্ঠপোষকতা দেবে। না হয় আমজাদ হোসেন, চাষী নজরুল, সুভাষ দত্তদের মতো গুনী নির্মাতারা বেকার বসে থাকবেন। কলকাতার স্টুডিওগুলোয় কাজ শুরু হয় সকাল ৯টার মধ্যেই। আর আমাদের এখানে? শিল্পীরাতো ঘুম থেকেই উঠেন দুপুর বারোটার পর। যারা আজকের চলচ্চিত্র শিল্পের 'বড়' নায়ক বা নায়িকা, উনাদের ভাবখানা এমন যেন, উনাদের ইচ্ছার উপর চলতে হবে সবাইকে। দুঃখের সাথেই বলছি, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা যদি পরিচালকদের সম্মান করতে ভুলে যান, তখন কিন্তু সেই দেশের চলচ্চিত্র শিল্প যে ধ্বংসের মুখোমুখি তা বলেই দেয়া যায়। আমাদের এখানে দেখা যায়, পরিচালক সেট-এ আসেন সকাল ৮টায়। কয়েক ঘন্টা পর অভিনেতা আসেন। প্রতিবাদ তো দুরের কথা, কেউ একটু টু শব্দও করতে সাহস পাননা। প্রখ্যাত পরিচালক রোমান পোলানস্কি আমাকে ভাইয়ের মতো স্নেহ করেন। উনার সাথে হলিউড দেখার এবং ছবির শুটিং দেখার সুযোগ হয়েছে। হলিউডের বাঘা-বাঘা নায়ক নায়িকারাও সকাল ৭টার ভেতর শুটিং ফ্লোর এ যান। আমাদের নায়ক-নায়িকারা কি তাদের চেয়েও বড় হয়ে গেছেন? প্রযোজকরা কোটি-কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও এখন, ঐসব বড় নায়ক আর নায়িকাদের হাতে রীতিমত জিম্মি। বিনয়ের সাথেই ঐসব নায়ক-নায়িকাদের বলতে চাই, যদি চলচ্চিত্র শিল্প না টেকে, তখন আপনারা কি খুব ভালো থাকবেন? প্রযোজকরা তো এক সময় হাত গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন। তখন আপনারা কি করবেন? তাকিয়ে দেখুন আজ বাংলাদেশের অডিও শিল্পের দিকে। একদিন ওই শিল্পেও কিছু শিল্পী কম গুয়ার্তুমি করেননি। প্রতিযোগিতা করে দাম হেকেছেন. যার যেভাবে ইচ্ছা। এক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু অডিও প্রযোজকেরও যে দোষ নেই তা নয়। এমনও কিছু অডিও প্রযোজক আছেন, যারা অকারণেই অসুস্থ প্রতিযোগিতা করে এখন নিজেরাই পড়েছেন ঘোর অন্ধকারে। শুনেছি, বেশ কিছু নামী-দামী অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নাকি এখন ব্যবসা গুটিয়ে ফেলছে, অথবা অন্য কোনো ব্যবসায় বিনিয়োগ করছে। আগে ঈদ আসলে অডিও বাজারে রীতিমত উত্সবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হতো। আর এখন, পাটুয়াটুলির মতো এলাকা, যা কি না অডিও শিল্পের প্রাণকেন্দ্র, সেখানে অধিকাংশ অডিও কোম্পানির শোরুম দিনের অর্ধেকবেলা বন্ধই থাকে। সামনের ঈদ-এ খুব বেশী হলে ১০-১২ তা নতুন এলবাম প্রকাশিত হবে কি-না সন্দেহ। অডিও শিল্পের এই করুন সময়ে শুধু যে অডিও প্রযোজকরা ভুগছেন তা কিন্তু নয়, শিল্পীরাও হাবুডুবু খাচ্ছেন। আগে প্রযোজকরা গাঁটের টাকা খরচ করে এলবাম বানাতেন। এখন আর কোনো শিল্পীর গানের এলবামই কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্রকাশে আগ্রহ দেখায়না। কয়েক বছর আগেও যেখানে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের কন্ঠ-সম্মানী দিয়ে গান করানো হতো, সেখানে এখন সেসব শিল্পীরা নিজেদের টাকায় এলবাম তৈরী করে প্রযোজকদের কাছেই ধরনা দিচ্ছেন। এমনও কিছু শিল্পী আছেন, যারা বিভিন্ন স্পন্সর-এর নেহায়েত দয়া নিয়ে কোনভাবে মান-সম্মান রক্ষা করছেন। আজকের বাংলাদেশের অডিও শিল্পের এই দুরবস্থ্হার জন্য হাতেগোনা কয়েকজন সংগীতশিল্পী দায়ী। অর্থের লোভে ওরা এতটাই বেসামাল হয়ে পরেছিলেন যে, অডিও শিল্পকে নিয়ে তারা রীতিমত জুয়া খেলেছেন। এবং নিয়তির অমোঘ পরিণতির মতো, আজ তারাই কাতরাচ্ছেন। এমন অনেক 'বড়' শিল্পী আছেন, যাদের অডিও এলবাম বছরের পর বছর প্রকাশ হচ্ছেনা। তারা এখনো টের পাচ্ছেননা কিভাবে তাদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। ভারতে একজন সংগীতশিল্পীর প্রতি বছর অন্তত একটা এলবাম প্রকাশ পায়। ভক্তরা নতুন-নতুন গান পান। আর আমাদের এখানে এমন অনেক শিল্পী আছেন যারা, সেই কবেকার পুরনো গানগুলোই এখনো ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে গাইছেন, বিভিন্ন স্টেজ শোতে। মানুষ একই গান আর কত শুনবে? এমন একটা সময় আসবে যখন, এইসব শিল্পীরা স্টেজ শোও আর পাবেন না । সে সময় বেশি দুরে নয়! বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে একই পরিনতি থেকে বাঁচানো প্রয়োজন। কারণ এই শিল্পে হাজার-হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। একইভাবে, অডিও শিল্পকেও আবার বাঁচিয়ে তোলা খুবই জরুরি। অডিও শিল্পে প্রযোজক এবং শিল্পীদের মাঝে দুরত্ব কমিয়ে আনতেই হবে। এর পাশাপাশি, পাইরেসি রোধ এবং বাংলাদেশের অডিও'র আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি করা দরকার। এখানে বলে রাখি, প্রতি বছর, পশ্চিম বঙ্গ থেকে আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্চ এবং ইউরোপীয় দেশগুলোয় কয়েক মিলিয়ন ডলারের অডিও এলবাম রপ্তানি হচ্ছে। সেসব দেশে বাংলাদেশের লোকসঙ্গীত-এর বিরাট চাহিদা আছে। কলকাতা'র অডিও বা সেখানকার বাংলা গান, এখনো বাংলাদেশ থেকে বহু বছর পেছনে। তবু, কোথায় যেন সব কিছুই আটকে আছে। আমরা ক্রমশ অন্ধকারের দিকেই এগুচ্ছি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে আশু ধ্বংসের হাত থেকে বাচাতে হলে জরুরি ভিক্তিতে সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি, শিল্পীদের মনোযোগী আর নিষ্ঠাবান হওয়া একান্ত দরকার। তা নাহলে, অডিও শিল্পের মতো, চলচ্চিত্রও অচিরেই জাদুঘরে যাবে। যেতে বাধ্য। Related Topics: Op-Ed and Editorial receive the latest by email: subscribe to weekly blitz's free mailing list Reader comments on this item
Comment on this item |
Latest Articles
Most Viewed |
||||||||||||
|
© 2012 Weekly Blitz. home | bangladesh | international | opinion & editorial | Supplements | archive | mailing list | about | contact | advertise |
|||||||||||||