|
||||||||||
|
||||||||||
|
Related Topics অশুভ পায়ের আওয়াজ শুনছি - Hearing the sound of unholy steppings
by সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী - Salah Uddin Shoaib Choudhury http://www.weeklyblitz.net/1640/hearing-the-sound-of-unholy-steppings
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কাদেরকে পুলিশের ওসি চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছেন, এটা এখন আর নতুন কোনো ঘটনাই নয়। সবাই জানেন এই কথা। গত ছয় মাসে পুলিশ যে হারে বেপরওয়া হয়ে গেছে তা কল্পনারও অতীত। অন্যদিকে, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে কতটা মারাত্মক অবনতি ঘটেছে তা বলার অপেক্ষাই রাখেনা। মাত্র কদিন আগে, আমার এক সহকর্মীকে ছিনতাইকারীরা রাস্তায় আটকায়। টাকা, মোবাইল, ঘড়ি ইত্যাদি ছিনিয়ে নেয়। মাত্র ৪০০ গজ দুরেই দাড়িয়ে ছিলো পুলিশের টহল ভ্যান। নির্বিকার! কিছুই বলেনি। কারণ, আজ-কাল নাকি ছিনতাই বানিজ্যে নিয়োজিতদের অধিকাংশই সরকার দলীয় "সোনার ছেলে"। এদের ধরলে পুলিশের চাকরি থাকেনা। তার ওপর আবার, প্রতি থানাতেই এখন সরকার দলীয় ক্যাডার। এডিসি বিপ্লবের কথা নিশ্চই আমরা ভুলে যাইনি। এমন "বিপ্লব" এখন পুলিশ বাহিনী'র গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় মহা-বিক্রমে কাজের নামে অকাজ করেই যাচ্ছে। সরকার এখনো হয়তো টের পাচ্ছেইনা কিভাবে এসব বিপ্লবের দল ক্ষমতাসীনদের সর্বনাশের ষোলকলা পূর্ণ করছে। পত্রিকার পাতায় দেখলাম, বঙ্গবন্ধু'র মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত খুনি, শাহরিয়ার রশিদের মেয়ে শেহনাজ রশিদ খানকে ধানমন্ডি থানা'র পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশ প্রথমে বললো, সন্তান-সম্ভবা শেহনাজ খান নাকি 'ইয়াবা' নামক মাদক সেবনকালে গ্রেফতার হন। পুলিশ তার বাসা থেকে আরো তিনজন পুরুষ লোককে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের এডিসি (হ্যা, এখানেও এডিসি!) আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের যা বললেন, তা রূপকথার কল্পকাহিনিকেও হার মানায়। তিনি একবার বললেন, শেহনাজ খান নাকি মাদক সেবনকালে গ্রেফতার হন, আরেকবার বললেন "তিনি মাদক সেবন করছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে"। পুলিশ এবং রেপিড একশন বাহিনী মানুষকে 'ইয়াবা' নামক এই মাদক দিয়ে হর-হামেশা ফাসাচ্ছে, এটা কার না জানা? এডিসি আনোয়ার হোসেন যে অভিযান চালালেন এবং বঙ্গবন্ধু'র খুনি'র কন্যাকে ধরলেন, এর পেছনে উনার কি বিশেষ মতলব আছে তা সহজেই অনুমেয়। এক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে সরকার এবং প্রশাসন এতটুকুও বিব্রত হবেনা। বরং তারা রীতিমত পুলকিত হবে । আর এটা অনুমানে রেখেই, এডিসি আনোয়ার হোসেন এই অভিযান চালাতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। একজন সন্তান সম্ভবা নারীর প্রতি সামান্যতম মমত্ববোধও কি দেখাতে আমাদের সরকার এবং পুলিশ প্রশাসন ভুলে যাচ্ছেন? হ্যা, ক্ষমতার লোভে মানুষ যখন অন্ধ হয়ে যায়, তখন তার হিতাহিত জ্ঞান বিচ্যত হয়। প্রশ্ন দেখা দিতেই পারে, কোন অপরাধে শেহনাজ খান'এর মতো নেহায়েত একটা গৃহবধু'র উপর সরকারী অথবা পুলিশী খড়গ নেমে এলো? তার একটাই 'পাপ'! সে বঙ্গবন্ধু'র খুনি'র মেয়ে। বাবা'র অপরাধের শাস্তি সন্তানদেরও পেতে হয়, এটা প্রাগ-ঐতিহাসিক বর্বর যুগে ছিলো শুনেছি। কিন্তু, সভ্য সমাজেও এটা আছে তা আনোয়ার হোসেনদের মতো দলবাজ পুলিশরাই বিশ্ববাসীকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো! পুলিশ বাহিনীর ইমেজ ইতিমদ্ধেই ধুলোয় মিশে গেছে। এখন আর পুলিশ জনগনের বন্ধু নয় - এরা জনগনের শত্রু! এই কথাটাই ধ্রুব সত্যের মতো প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলো। রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য পুলিশ বাহিনী'র গুরুত্ব কতটুকু, তা নিশ্চই আবার বলতে হবেনা। কিন্তু দুঃখজনকভাবেই, বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী আজ ধংশের মুখোমুখি। পঁচে গেছে ওদের ইমেজ । এটা কিন্তু মোটেও সুখের খবর নয়। ফিরে যাই অন্য একটা প্রসঙ্গে। রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এডভোকেট নুরুল ইসলামের খুনি, বিপ্লবের ফাসির আদেশ মাফ করে দিয়েছেন। এটা পুরনো খবর। ফেনী'র জলজ্যান্ত ত্রাস, আবু তাহের পুত্র বিপ্লব রাষ্ট্রপতির সহানুভূতি পেলো এই কারণে যে, সে নিজে এবং তার বাবা, ক্ষমতাসীন দলের "মহারত্ন"। ২০০১ এর নির্বাচনে আওয়ামিলীগ ডুবেছিল যাদের কুকর্মের কারনে, এই তাহের বাহিনী তার অন্যতম। একজন খুনিকে ক্ষমা করে নিস্সন্দেহে রাষ্ট্রপতি তার হাতকে কলংকিত করেছেন। শুনেছি, রাষ্ট্রপতি নাকি এভাবে ২২ জনেরও বেশি খুনিকে দলীয় বিবেচনায় মৃত্যদন্ড মাফ করে দিয়েছেন। বিনীতভাবেই, রাষ্ট্রপতিকে প্রশ্ন করবো, আপনার স্ত্রী'র খুনিদের কেউ যদি ক্ষমা করে দিতো, আপনি কি ওই ক্ষমাকারীদের ক্ষমা করতে পারতেন? নাকি, বিচার পাওয়ার অধিকার একমাত্র আপনাদের মতো "বিশেষ" শ্রেনীর? বাকিরা কি কুকুর-বিড়াল? একজন আইভি রহমান এবং একজন নুরুল ইসলাম, রাষ্ট্রে'র দৃষ্টিতে দুজনই কি সমান নন? আইভি রহমানে'র খুনিদের বিচার হলে, নুরুল ইসলামে'র খুনিরা ক্ষমা পায় কোন যুক্তিতে? মানুষ প্রথম বয়সে কোনো ভুল করলে তা সুধরানোর সময় পায়। কিন্তু শেষ বয়েসের ভুল কলংকের কালী হয়েই কবরে যায়, ওই মানুষটার সাথে! জানিনা, রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান তা অনুধাবন করেন কি-না! তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সব অর্জন ধংশ হয়ে গেল, এই খুনিকে রাজনৈতিক বিবেচনায় ক্ষমা করার মাধ্যমে। জিল্লুর রহমানের মতো একজন প্রবীন মানুষ কিভাবে রাজনৈতিক অন্ধত্বের কাছে আত্ম সমর্পণ করলেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে কালো কালিতেই লেখা থাকবে। সন্দেহ নেই! একটা দৈনিক পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত একটা ছবি দেখে রীতিমত শংকিত। মাত্র কয়েক বছর আগে সুপ্রীমকোর্ট প্রাঙ্গনে ঘটে যাওয়া দুঃখজক ঘটনার ছবি এটি। সেদিন কিছু দলীয় আইনজীবী দেশের শীর্ষ এই বিচারালয়ে ভাংচুর চালিয়ে ছিলেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন এবং কলংকজনক ঘটনা। প্রকাশিত ছবিটি'র ক্যাপশনে পত্রিকাটি দাবি করেছে, সেদিনের ঘটনার কুশীলবদের একজন নাকি আজ একই আদালতে'র বিচারপতি! ছবি কখনো মিথ্যা বলেনা, তাই, যার ছবি ছাপা হয়েছে, তিনি হয়তো ঘটনার দায় এড়াতে পারবেননা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এসবের মাধ্যমে কি আমাদের শীর্ষ বিচারায়তনকে বিতর্কের মুখোমখি করা হলোনা? এর পরিনতি কি আমরা কখনো ভাবি? বিশ্ব জুড়েই রাজনীতিতে ওলট-পালট হচ্ছে। মিশরের হুসনি মোবারক অথবা তিউনিসিয়ার বেন আলী - এরা এই কয়েক মাস আগেও দুর্দণ্ড প্রতাপের অধিকারী ছিলেন। আর আজকে ওরাই বিচারের মুখোমুখী। লিবিয়া'র গাদ্দাফি এখন রীতিমত প্রাণ বাচাতে লড়ছে। সন্দেহ নেই, তার ক্ষমতার সময় শেষ! রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঝড়ের হাওয়া নাকি দক্ষিন-পূর্ব এশিয়া'র দেশগুলোতেও 'আঘাত' হানবে। হতেই পারে! থাইল্যান্ড-এ তো রাজনীতির হিসেব ওলট-পালট করে দিলেন ৪৫ বছরের ইংলাক সিনাওয়াত্রা। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি'র নতুন দিগন্তের সূচনা করছেন ৩৬ বছরের হিনা রাব্বানী খার। সবখানেই পরিবর্তনের হাওয়া! শোনা যায় মিশর-তিউনিশিয়া'র পাল্টে দেয়ার পেছনে নাকি জনগনকে উস্কে দিয়েছে সেনাবাহিনী। হিনা রাব্বানী'র নিয়োগ অথবা ইংলাক সিনাওয়াত্রা'র বিজয়ের পেছনেও কল-কাঠি নেড়েছে 'অদেখা'রা। জানিনা, আমাদের কপালে শেষ পর্যন্ত কি আছে। Related Topics: Bangladesh News receive the latest by email: subscribe to weekly blitz's free mailing list Comment on this item |
Latest Articles
Most Viewed |
|||||||||
|
© 2012 Weekly Blitz. home | bangladesh | international | opinion & editorial | Supplements | archive | mailing list | about | contact | advertise |
||||||||||