কেউ কি মনে রাখে ?

এ জে চৌধুরী

শোনা গেল যে, আট দিন ধরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। 

তিনি কি হারিয়ে গিয়েছিলেন ? নাকি তাঁকে গুম করে ফেলা হয়েছিলো ?? নাকি অন্য কিছু ???

আমরা সকলেই জানি ৯০ এর দশকে রাশিয়া এক চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে।  ১০০ ভাগ শিক্ষিতের দেশ হওয়া সত্বেও রাশিয়া কি চরম বেকায়দায় পড়ে তা সবার জানা। 

দি আটলান্টিকের সংবাদ শিরোনাম “এ রাশিয়া আফটার পুটিন” এ জানা যায়,  “Vladimir Putin’s mysterious sabbatical from public life is now in its eighth day, and, still, nobody knows where he is. The Kremlin, whose spokesman Dmitry Peskov has the unfortunate task of insisting nothing is wrong, denies that the Russian president is incapacitated. On Saturday, Moscow announced that Putin will surface on Monday in St. Petersburg, where he’s scheduled to meet Kyrgyz President Almazbek Atambaev. The meeting would be Putin’s first public appearance since March 5, when he met with Italian Prime Minister Matteo Renzi.”

সংবাদ দাতারা দাবী করছেন, ” The Kremlin, whose spokesman Dmitry Peskov has the unfortunate task of insisting nothing is wrong, denies that the Russian president is incapacitated” অর্থাৎ হয় ওঁদের বিশ্বাস বা মিডিয়ার শক্তি ব্যবহার করে তাঁরা জনমনে এমন ধারণা দেবার চেষ্টা করছেন যে, ক্রেমলিন কোনো তথ্য গোপন করছে, আর তা হলো পুতিন ক্ষমতাচ্যুত। 

তবে কিসের স্বার্থে সংবাদ মাধ্যমগুলো এমন করে থাকেন (?)

আমরা জানি মাহাথির মুহাম্মদের মত নেতা মালয়েশিয়াকে বিশ্ব দরবারে কোন স্থানে নিয়ে গেছেন। 

ভারতের মত “গুনী লোকে ভরপুর” দেশে আজও  যেখানে ৬০% মানুষ না খেয়ে থাকেন, তুলনামূলক “নির্গুনা” মালয়েশিয়া আজ অর্থনৈতিক ভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ। 

মালয়েশিয়ানরা মাহাথিরকে সন্মানের আসনে বসিয়েছেন ; দিয়েছেন তাঁকে প্রকৃত বীরের সন্মান— আসলেই তো তাই। ….বড় বড় প্রতিশ্রুতি আর বিশাল বিশাল বক্তব্য কি  জনগনের জন্য যথেষ্ঠ (?) সুস্থ্যভাবে চিন্তা করলে তা মোটেই সত্যি না। 

আমরা খুব ভালো ভাবে জানি আমাদের দেশের গণতন্ত্রের কি অবস্থা ; কি ভয়ানক হাল —!!!

অনেকে বা অধিকাংশ জনগণ (ভোটার)  জানেন না তাঁরা কেন ভোট দিচ্ছেন। তাঁরা জানেন কয়েক বছর পর পর “ভোটাভোটি” হয় যখন তাঁদের আঙ্গুলে বেগুনী কালী দিয়ে দাগ দে’য়া হয় এক অন্ধকার প্রকোষ্ঠে, আর সেই দিনের আগে আসেন সুন্দর পাঞ্জাবী পড়া ভদ্রলোকেরা ওঁদের বাড়ী। এসে বলেন “আম্মা বা খালাম্মা আপনের ছেলেটার কথা মনে রাখিয়েন ভোট কেন্দ্রে যাইয়া” 

ভোট শেষ আর সাথে সাথে ওই ছেলের অস্তিত্বও বিলীন।  যদিও একজন সংসদ সদস্যের কাজ না ওই “মায়েদের” মুখে হাঁসি ফোটানো —ওঁদের কাজ নতুন নতুন আইইন তৈয়ার করা।  কিন্তু ওই সকল “মায়েদের ” অন্তরে এমন আশার সৃষ্টি করা হয় যে ওই “সোনার ছেলেরা” ভোটে জিতলে জুটবে ওঁদের ভাগ্যে সবকিছু। ……কাপড় জামা হতে শুরু করে খাদ্য, বাসস্থান —-এককথায় সুন্দর জীবন। ..

একটা মজার কৌতুক আছে। .. দোজখে রয়েছে বিভিন্ন জাতির লোকেরা।  ফরাসী, ব্রিটিশ, আমেরিকান ইত্যাদি।  সাথে আছে বাংলাদেশী।  সকল দোজখে রয়েছে রক্ষী বা গার্ড আর বাংলাদেশী দোজখ অরক্ষিত। 

কেউ ভাবলেন, বাংলাদেশী দোজখ বাসীরা অতি সুসৃন্খল — ওঁরা নিয়ম ভঙ্গ করেন না।  কিন্তু, পরবর্তিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো বাংলাদেশী কোনো দোজখবাসী কোনোমতে দোজখের তৃ-সীমানা পার হয়ে ভালো কোনো জায়গায় যাবার চেষ্টা করলে অন্য স্ব-দেশীয় তার পা টেনে ধরে রাখেন যেন সে কোনো অবস্থায় উন্নত জীবনে না যেতে পারে।

এটি কেবলই কৌতুক।  কিন্তু বৃহত্তর বাস্তবতায় এক্কেবারেই সত্য।  রাশিয়া ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে কোথায় গেছে সকলের জানা। 

কিন্তু, অন্যদের সহ্য হচ্ছে না।  তাঁরা মানতে পারেন না ওঁদের “চাল” ভেস্তে গেছে। বিশ্ব মাতব্বরেরা মানতে রাজী না তাঁরা চেয়েছিলেন রাশিয়া না খেয়ে থাক আর ওই “বেয়াদব” ওঁদের ভুল প্রমান করে আজ রাশিয়াকে আবার নিয়ে গেছেন এক বিশাল অবস্থানে।

আজ কিসের খাতিরে ওঁরা প্রচার করতে চাইছেন ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতাচ্যুত — বুঝতে পারছেন কি দেশপ্রেমিক রাশিয়ানরা (?)

কারো বাবা আছেন পৃথিবীর বুকে কিন্তু হাসপাতালে আর তিনি লোকান্তরে এর মধ্যে যে কত পার্থক্য যারা একটু ভাবেন বুঝতে পারেন। বাবা নেই মানেই সামান্য কিছুক্ষণ কান্নাকাটি— তারপরই শুরু হয়ে যায় সম্পত্তি ভাগাভাগির গল্প।

কেউ দূর থেকে রাশিয়ানদের মনে ইম্পোজ করতে চাইছেন “ওই বাবা আর নেই” কানলে কানতে পারো কিছুক্ষণ — তারপর লেগে যাও সম্পত্তি ভাগাভাগিতে।

আমাদের দেশেও একজন নেতা দরকার।  যিনি সত্যি জনগনকে সন্তান তুল্য ভাববেন।  ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে আমরা যে কি পাবো, অতীত অভিজ্ঞতা আমাদের খুব ভালো করে শিখিয়ে দিয়েছে। 

যে কোনো কেউ একটু গভীর ভাবে চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন এ’দেশটাকে সামনের দিকে অনেকটা এগিয়ে নেবার জন্য এবার প্রয়োজন একজন অগ্রসরমান, দৃঢ়চরিত্র নেতার। 

আমি বিশ্বাস করি যে কোনো মুহুর্তে আবির্ভাব হবে তাঁর — যে কোনো পরিপ্রেক্ষিতে। 

আমরা সেই রকম নেতা পাইনি তা নয়।  কিন্তু, থাকতে দে’য়া হয়নি ওঁদের খুব বেশি দিন।  আমাদের “মিত্রেরা” বিভিন্ন অজুহাতে আস্তে করে সরিয়ে দিয়েছেন ওঁদের।…….

তবুও চলে আসবেই সে দিন — এটি অবধারিত ; ধ্রুব সত্য —!!!

কিন্তু আমরা যেন রাশিয়ানদের মত “শিক্ষিত বোকা” না হই। তথাকথিত ভোটের অধিকার পুন: প্রতিষ্ঠা করতে যেন ব্যস্ত না হয়ে পড়ি (?) ভুলে যেন না যাই তাঁর অবদানের কথা।

%d bloggers like this: