দুই ভৃত্যের (আব্দুল) আজব কান্ড

বিকাশ হালদার

এক আব্দুল (ভৃত্য) কিছুদিন আগে বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা এবং পশ্চিম বঙ্গের সকলের প্রানপ্রিয় নেত্রী শ্রীমতি মমতা ব্যানার্জীকে নিয়ে ব্যঙ্গ করলেন। নাম তার আব্দুল গাফফার চৌধুরী। সংক্ষেপে, আ গা চৌ।

তিনি শ্রীমতি শেখ হাসিনা কে “বিবি” নামে সম্বোধন করলেন। আমি মনে করি তিনি শেখ হাসিনা কে ব্যঙ্গ করে “বিবি” ডেকেছেন। হয়তোবা তিনি বলবেন আমি সন্মান করে তাকে বিবি বলেছি।

আমার পৈত্রিক ভিটাভূমি বাংলাদেশে। আমি মূলত ওখানকার সন্তান যদি রাজনৈতিক পরিচয়কে বাদ দিয়ে ভাবি, যতদুর শুনেছি (গুরুজনদের কাছ থেকে) বাংলাদেশে যে সকল মুসলিম জমিদারেরা ছিলেন, তাদের গৃহ ভৃত্যরা জমিদার বাড়ির পুরুষ সদস্যদের “সাহেব” আর নারী সদস্যদের “বিবি” বলে ডাকতেন। যদি শ্রী আ গা চৌ শেখ হাসিনা কে সেই রকম বিবি বলে থাকেন তবে আমার কোনো আর আপত্তি থাকলোনা। 

কিন্তু যদি তিনি নিজেকে একজন “স্মার্ট” ভেবে থাকেন, তবে তার মনে রাখা উচিত, শেখ হাসিনাকে স্মার্টলি ব্যঙ্গ করার অর্থ বাংলাদেশকে ব্যঙ্গ করার শামীল। আমি জানি আপনি বিলেতে থাকেন আর সেখানে বসে ব্যঙ্গ করলে কেউ আপনাকে কিসসু করবেনা। আবারও আপনি প্রমান করলেন আপনি সত্যি স্মার্ট।

খুব আশ্চর্য লাগে যখন দেখি এই ইংল্যান্ড যেখানে “ক্রাউন আর ক্রিসচিয়ানিটি” নিয়ে ব্যঙ্গ করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল, সেই একই দেশে বসে অন্যের ধর্ম এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যঙ্গ করাকে রীতিমত উৎসাহিত করা হয়। নিস্সন্দেহে এটি ডাবল স্ট্যান্ডার্ড।

ওই লোকের নামের অর্থ দাড়ায় আব্দুল গাফফার বা ক্ষমাশিলের ভৃত্য। একারণে অর্থাৎ যেহেতু তিনি ক্ষমাশিলের ভৃত্য তাই কি তিনি ভেবে নিয়েছেন যে, চিরকাল তিনি সকল অপরাধের জন্য ক্ষমা পেয়েই যাবেন (?)

আমি যতদুর শুনেছি ওই ভদ্রলোক একজন ধর্ম বিদ্বেষী মানুষ। একবার তিনি বলেছিলেন (বাংলাদেশে বসে) যে বিলেত যাবার আগে তিনি দেখে গিয়েছিলেন তখন এদেশের লোকেরা বলতো খোদা-হাফেজ আর ফিরে এসে দেখলেন আল্লাহ হাফেজ। কথাটি তিনি রীতিমত চেহারা বিকৃত করে বলেছেন। আমি বুঝতে পারিনা একথা বলার জন্য কেন তার বিরুদ্ধে ধর্ম দ্রোহীতার মামলা করা হবেনা ? একথাটি তো খুব একটা স্মার্ট ও না। সরাসরি তিনি সৃষ্টিকর্তা কে অপমান করছেন।বাংলাদেশের মানুষ কি সত্যি এতোটা সেক্যুলার যে আল্লাহ কে নিয়ে কেউ কটাক্ষ করলে তা উদার দৃষ্টিতে দেখেন (?)

আরেক আব্দুল যার পুরো নাম আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী কিছুদিন আগে আমেরিকায় বসে ইসলামের তীর্থ স্থান মক্কা বা কাবা এবং সকল মুসলমানের প্রানের মানুষ মুহাম্মদ (তার উপর শান্তি বর্ষিত হোক) কে নিয়ে যা ইচ্ছা তা বললেন এবং সেজন্য সামান্য অনুতাপ করতে পর্যন্ত রাজি হলেন না. দৈনিক অবজারভার এ (Monday, September 29, 2014)  প্রকাশিত সংবাদে তিনি বলেন, “The minister said, If one lakh pilgrims go to Saudi Arabia on an average and each of them spends Tk 5 lakh, then they spend a total of Tk 500 crore. Explaining the reasons behind the introduction of Hajj, Latif Siddiqui said, “Abullah’s son Muhammad thought how people of Jajiratul Arab would survive. They were robbers. Then he introduced a system stating that his followers will assemble once in a year. Through this system, a scope of income will be generated.”

ধরে নিলাম আমেরিকায় ইসলাম নিধনের এক গোপন প্রোগ্রাম আছে আর সেখানে বসে মুসলিম দেশের কোনো গুরুত্বপূর্ণ কেউ ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু বললে সেটি সেদেশের সরকারের জন্য বেশ সুবিধার। কিন্তু, আশ্চর্য লাগে যখন তিনি মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ট বাংলাদেশে বীরত্বের সাথে প্রবেশ করেন। শুনেছি, তার এই ধৃষ্টতা-পূর্ণ মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে ডজন  খানেক মামলা হয়েছে এবং  সেই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরওয়ানা জারি ছিলো। এতগুলো গ্রেফতারী পরওয়ানা আর এত সমালোচিত ব্যক্তি কি করে ঢাকা বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের দৃষ্টিকে ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে গেলেন — সত্যি আশ্চর্য  …. !!

প্রায়ই বাংলাদেশের পত্রিকা গুলোতে দেখি সেদেশের চৌকস শুল্ক কর্মকর্তারা অতি গোপন স্থানে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণ ইত্যাদি উদ্ধার করেছেন,  কিন্তু,  এতোবড় একটা মানুষ; জলজ্যান্ত একজন মানুষ এতোগুলো লোকের চোখকে ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে গেলেন এও সকলকে বিশ্বাস করতে হবে …. (?)  …

আমি ছাড়াও অনেকেই জানেন, ইংরেজি সাপ্তাহিক উইকলি ব্লিটজ (Weekly BLITZ) সম্পাদক সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী কে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে সাত বছরের। অপরাধ ? ইজরাইলে গিয়ে সেখানে এক সেমিনারে তিনি বক্তব্য দিতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশে জঙ্গিদের অস্তিত্ব আছে এই প্রসঙ্গে। সেখানে যাবার আগেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়, ১৭ মাস কারাগারে রাখা হয় এবং পরবর্তিতে ছেড়ে দেয়া হয় জামিনে।

যে অপরাধ সংগঠিত হয়নি সেই অপরাধে সাজা পেলেন এক বছর পাঁচ মাস।

সেই একই মামলায় তাঁকে (বিচার শেষে) সাজা দেয়া হয় ৭ বছর।

অর্থাত, আট বছর সাত মাস।

মামলার রায়ে কারণ হিসেবে দেখানো হয়, শোয়েব চৌধুরী আমেরিকার এক পত্রিকা নাম ইউ এস এ টুডে তে হ্যালো তেলাভিভ শিরোনামে এক আর্টিকেল লিখেন। আর তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের ঢাকা – তেলাভিভ – ঢাকা রুটের এক বিমান টিকেট।

মজার ব্যাপার হলো, না ইউ এস এ টুডে তে আছে হ্যালো তেলাভিভ নামের কোনো আর্টিকেলের অস্তিত্ব না আছে বাংলাদেশ বিমানের কোনো তেলাভিভ ফ্লাইট।…….

হয়তো ধর্ম বা মহান ধর্ম মনিষীদের সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে লাগে এক বিশেষ ক্ষমতা যা রয়েছে আব্দুল নামধারী ধৃষ্টদের।

হয়তো এরা বয়সের ভারে ন্যুজ এই বিবেচনায় একদিন পার পেয়ে যাবেন (?) বা হয়তো সকলেই বলবে, পাগলে কিনা বলে — ছাগলে কি-না খায় (!!!)

%d bloggers like this: