উইকলি ব্লিটজ এবং একজন শোয়েব চৌধুরী

স ম হাসান সিদ্দিকী

তেরো বছরে পা দিলো উইকলি ব্লিটজ। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ইংরেজি সাময়িকী। পত্রিকাটির বৈশিষ্ট হলো এর ধারালো লেখনী। জঙ্গীঁবাদ, সন্ত্রাস, ধর্মের নামে হানাহানি এবং অশান্তি-অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার ব্লিটজ। পৃথিবীজুড়ে এর পরিচিতি। বিশ্ব নেতা এবং নীতি-নির্ধারকরা এটি পড়েন। কারন তাঁরা জানেন, ব্লিটজ সত্য প্রকাশে আপোষহীন-সবসময়। কাউকেই ভয় পায় না ব্লিটজ। কারন, এটির সম্পাদক সালাহ্ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা এক বীর কলম সৈনিক।

বাংলাদেশের জঙ্গীঁবাদের উত্থানের তথ্য প্রকাশ করার ‘অপরাধে’ ২০০৩ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার শোয়েব চৌধুরীকে আটক করে জেলে দেয়। তার বিরুদ্ধে রাষ্টদ্রোহ এবং ধর্মদ্রোহীতার মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। সারা বিশ্বে এর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠেন লাখ-লাখ শান্তিকামী মানুষ। মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস্ -এ খালেদা সরকারের সমালোচনা করে সম্পাদকীয় প্রকাশ হয়। পত্রিকাটি শোয়েব চৌধুরীর মুক্তি দাবী করে।

নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়তে স্থান পাওয়া সোজা ব্যাপার নয়। হাজার বছর সাংবাদিকতা করলেও না । এই পত্রিকার সম্পাদকীয় হয়েছেন নেলসন ম্যানডেলাদের মতো মানুষেরা।

২০০৫ সালে শোয়েব  চৌধুরী জামিনে মুক্তি পান। কিন্তু, বিএনপি-জামায়াত জোট হয়রানীমুলক মিথ্যা মামলাটি প্রত্যাহার করেনি।

২০০৫ সালে পেন-ইউএসএ, শোয়েব চৌধুরীকৈ ফ্রিডম টু রাইট পুরুষ্কার দেয়। ২০০৬ সালে আমেরিকান জুয়িশ কমিটি যখন তাকে ‘মোরাল কারেজ এওয়ার্ড’ দেয়, তখন সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ, জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, জার্মান চ্যান্সেলার এনজেলা মারকেল, ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী নেতানইয়াহু, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলডোলিজা রাইসসহ আরো অনেকেই। ভাবা যায়,কি অসামান্য সম্মান?

শোয়েব চৌধুরী আরো অনেক আন্তর্জাতিক পুরষ্কার পেয়েছেন। তার লেখা বই বিশ্বের এক হাজার পাঠাগারে আছে। গবেষকরা এসব পড়েন।

শোয়েব চৌধুরীকে আন্ত: ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং জঙ্গীঁবাদের ওপর লেকচার দিতে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় ইয়েল, পেনসিলভেনিয়া, বোষ্টন প্রভৃতিতে নিয়ে যাওয়া হয়। তার বক্তব্য শোনে এবং তার কাছ থেকে জঙ্গীঁবাদ বিষয়ে অবগতি গ্রহন করে মার্কিন সিনেট, মার্কিন কংগ্রেসসহ ইউনাইটেড ষ্টেইটস্ কমিশন কর ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম।

২০০৭ সালে মোনাকোর জাতীয় পুরষ্কার পান শোয়েব চৌধুরী, সেদেশের রাজা প্রিন্স এলবার্ট এবং নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী এলি উইসেলের হাত থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্টের ৩টি শহর তাকে সম্মানজনক নাগরিকত্বও দিয়েছে।

দু:খজনক হলেও সত্যি, ২০১২ সাল থেকে তিনি কারাবন্দী। বর্তমান সরকারের আমলেই শোয়েব চৌধুরীকে ৭ বছরের সশ্রম করাদন্ড দেয়া হয়। ২০১৫ সালের অগাষ্ট মাসে হইকোর্ট তাকে জামিন দিলেও রাষ্ট্রের আবেদনে সেটি স্থগিত হয়ে গেছে।  সাজার বিরুদ্ধে আপিলের শুনানী হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গত ৭ মাস ধরে ঝুলে আছে।

মহামান্য, রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আবদুল হামিদ, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের সদস্যবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সদয় দৃষ্টি আকর্ষন করে বিনয়ের সাথে জানতে চাই, জঙ্গীঁবাদ বিরোধী সাংবাদিক সালাহ্ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী কি সন্ত্রাস-জঙ্গীঁবাদের বিরুদ্ধে কলম ধরে বিরাট অপরাধ করেছেন? মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে সবিনয় নিবেদন, আপনি ন্যায় পরায়ন মানুষ, সেটা সারা দেশ জানে। দয়া করে সালাহ্ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর আপিলের নথিটা একটু পড়ে দেখুন। তখন আপনি অবশ্যই জানবেন কতোটা অন্যায়ভাবে সম্পূর্ন ভিত্তিহীন একটি মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও বিনীত প্রার্থনা, জঙ্গীঁবাদ বিরোধী সাংবাদিক শোয়েব চৌধুরীর পাশে দাঁড়ান। আপনি নিজে এই অন্যায় এবং বিএনপি-জামায়াতের সাংবাদিক নিপীড়নের  বিষয়টি সংসদ এবং জাতির সামনে তুলে ধরুন।

Comments

comments

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *