Connect with us

পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি

বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

Politics

পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি

আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। ওই নির্বাচনে খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারবেন না। কারণ তিনি সাজাপ্রাপ্ত। বিএনপি’র আরো বেশ কিছু নেতাও একই কারণে নির্বাচনে অংশ নেয়ার অযোগ্য। এক্ষেত্রে বিএনপি গোপনে ২০২৩ সালের নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণ এবং নানাবিধ প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। কারণ, ২০২৩ সালের নির্বাচনে এরশাদ-বিহীন জাতীয় পার্টির আর কোনো রাজনৈতিক মূল্য থাকবে কিনা এনিয়ে অনেকের মনেই সন্দেহ-সংশয় আছে। তাছাড়া ২০১৪ সাল থেকে আওয়ামীলীগের কোয়ালিশন সরকারের অংশ হওয়ার সুবাদে জাতীয় পার্টির বহু নেতা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। এদের অনেকেই বিদেশে শতশত কোটি টাকা পাচার করেছেন বলেও শোনা যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের নেতারা যখন দেশের উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তখন জাতীয় পার্টির নেতারা ব্যস্ত ছিলেন অন্য ধান্দায়। একই অভিযোগ শোনা যায় ২০১৪ পরবর্তী কোয়ালিশন সরকারের বামপন্থী অংশীদারদের বিরুদ্ধেও। তাদের কেউকেউ ২০১৪ সালের আগে রিক্সা কিংবা বাসে চড়তেন। এখন ওনারা চড়েন কোটি টাকা দামের গাড়ীতে। ঢাকায় তো একাধিক বাড়ী করেছেনই, বিদেশেও এদের গোপন সম্পদের অভাব নেই।

এবছর মার্চে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন জঙ্গী গোষ্ঠীর সহজোগীতায় দেশে চরম অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে আওয়ামীলীগ সরকারকে ক্ষমচ্যুত করার যে নীলনকশা বিএনপি-জামাত এঁটেছিলো তা এরই মাঝে ভেস্তে গেলেও এখনও বিএনপি মনে করছে হেফাজতের শক্তির সিকি ভাগও শেষ হয়নি। বাবুনগরীদের মতো উগ্রপন্থী এবং আওয়ামীলীগ বিরোধী নেতারা এখনও গোপনে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে মরহুম এরশাদের জাতীয় পার্টি নিজেদেরকে হেফাজতের বিরুদ্ধে দাড় করাতে নারাজ। বিগত দিনগুলোয় জাতীয় পার্টি কখনোই হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে টু শব্দটিও করেনি। বরং গোপনে হেফাজতের সাথে জাতীয় পার্টি যোগাযোগ রাখছে। ২০১৩ সালে মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে জাতীয় পার্টির নেতারা যোগ দিয়ে হেফাজতের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন। এরশাদ বিশ্বাস করতেন হেফাজত কখনো ক্ষমতা দখল করতে পারলে তিনি এবং তাঁর দলই হবে হেফাজতের মূখ্য মিত্র। এখনও জাতীয় পার্টি নিজেদের হেফাজতে ইসলামের আদর্শিক মিত্রই ভাবছে। একারণেই এই দল হেফাজত কিংবা জঙ্গী ইস্যুতে কোনও কথাই বলছে না।

জাতীয় পার্টির নেতারা মনে করেন, ২০২৩ সালের নির্বাচনে যেহেতু বিএনপি অনেকটাই অভিভাবকহীন, কারণ খালেদা জিয়া নিজেই নির্বাচন করতে পারছেন না, সেক্ষেত্রে জাতীয় পার্টিই মুল ফ্যাক্টর হতে যাচ্ছে। কিন্তু জাতীয় পার্টির বেশিভাগ নেতাই মনে করছেন ২০২৩ সালের নির্বাচনে তারাই জয়ী হবেন। এক্ষেত্রে গোপনে জাতীয় পার্টি আপাতত সরকার বিরোধী শক্তির সাথে যোগাযোগ রাখছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এরশাদ বিহীন জাতীয় পার্টি আসলেই এখন আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনও ফ্যাক্টর নয়। বরং জাতীয় পার্টির বর্তমান অবস্থান একেবারেই আওয়ামীলীগের দয়ার কারণে। আওয়ামীলীগের দয়া ছাড়া জাতীয় পার্টি একদম মূল্যহীন। একারণেই ২০২৩ সালের নির্বাচনেও জাতীয় পার্টিকে আওয়ামীলীগের দয়ার কাঙ্গাল হতেই হবে।

বিশ্লেষকরা বলেন, বিদেশীদের কাছে জাতীয় পার্টির কোনই মূল্য নেই। কেউ ওই দলকে দাম দিতে নারাজ। এমনকি অনেক দেশের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বাংলাদেশ সফরে যখন আসেন তখন জাতীয় পার্টির নেত্রী এবং সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের সাথে ওনারা দেখা করার প্রয়োজনীয়তাও বোধ করেন না। কারণ, ওনাদের কাছে, জাতীয় পার্টি হলো জেনারেল এরশাদের ওয়ান ম্যান’স পার্টি। এরশাদ মারা যাওয়ার পর, ওই দল এখন ক্রমশই কাগুজে দলে পরিণত হয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে ২০২৩ সালের নির্বাচনে বাম ঘরানার দলগুলোরও আর তেমনভাবে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনে একেবারেই নেই। কারণ, এদেশে বামদের কোনকালেই জনসমর্থন ছিলো না। ভোট তো একেবারেই নেই।

তাহলে ২০২৩ সালের নির্বাচনে বিরোধী দল হিসেবে হলেও বিএনপি-ই ফ্যাক্টর এবং অপরিহার্য। এটাই বাস্তবতা। একারণেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে এক্ষুনি বিশ্ববাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং অর্জনগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের সুদৃঢ় অবস্থানের বিষয়গুলো তুলে ধরা জরুরী। এটা কে কিভাবে করবেন, সেটা সরকারের নীতিনির্ধারকরা অবশ্যই জানেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বাইরে বিশ্বের অন্য কোনও দেশেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং অর্জনগুলো বিদেশের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশে আমাদের দূতাবাসগুলোর প্রেস শাখা ব্যর্থ হয়েছে। আসলে প্রেস শাখায় যাদের পাঠানো হয়, ওনাদের দিয়ে কাজের-কাজ কোনকালেই হয়নি। এটা কেবল আওয়ামীলীগ সরকারের ক্ষেত্রেই নয়, বিগত সব সরকারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

Please follow Blitz on Google News Channel

Recommended for you:
Continue Reading
Advertisement

Contents published under this byline are those created by the news team of WeeklyBlitz

Click to comment

Leave a Comment

More in Politics

Popular Posts

Subscribe via Email

Enter your email address to subscribe and receive notifications of new posts by email.

Top Trends

Facebook

More…

Latest

To Top
%d bloggers like this: